প্রিয় পাঠক!

জ্ঞান বিতরণের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সার্ভার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন। আপনার আমাদের এই উদ্যোগটি চালিয়ে নিতে এবং আরও নতুন বই সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ।

দরজার ওপাশে
হিমু সিরিজ ০১ আগস্ট ২০২৩

দরজার ওপাশে

হুমায়ূন আহমেদ

১১৫ ভিউ
৪৫ ডাউনলোড
বইটি ডাউনলোড করুন
ঘুমের মধ্যেই শুনলাম কে যেন ডাকল : হিমু, এই হিমু।

গলার স্বর একইসঙ্গে চেনা এবং অচেনা। যে ডাকছে তার সঙ্গে অনেক আগে পরিচয় ছিল, এখন নেই। মানুষটাকে ভুলে গেছি, কিন্তু স্মৃতিতে তার গলার স্বর রয়ে গেছে। পুরুষালী ভারী গলা। একটু শ্লেষ্মা-জড়ানো। আমি আধোঘুমে জবাব দিলাম—কে? কেউ উত্তর দিল না। ভয়াবহ ধরনের নীরবতা। আমি আবার বললাম—কে, কে ওখানে? ছোট্ট করে কেউ যেন নিশ্বাস ফেলল। আশ্চর্য! নিশ্বাস ফেলার শব্দটাও আমার চেনা। টুকটুক করে দুবার শব্দ হলো দরজায়। দরজার ওপাশের মানুষটি চাপা গলায় ডাকল : হিমু, এই হিমু।

আমার অস্বস্তিবোধ হতে লাগল। ঘর অন্ধকার, গাঢ় অন্ধকার। রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল বলে দরজা-জানালা বন্ধ করে শুয়েছি। রেডিয়াম ডায়ালের টেবিল-ঘড়ি ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাওয়ার কথা না, কিন্তু সবকিছু পরিষ্কার দেখছি। ঐ তো দেয়ালের ক্যালেন্ডার দেখা যাচ্ছে। ক্যালেন্ডারের লেখাগুলি পর্যন্ত পড়তে পারছি। এর মানে কী? এটা কি তাহলে স্বপ্ন? পুরো ব্যাপারটা ঘটছে স্বপ্নে? দরজার ওপাশে আসলে কেউ নেই? চেনা এবং অচেনা গলায় আমাকে কেউ ডাকছে না? ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখছি, এবং ঘুমের মধ্যেই বুঝতে পারছি এটা স্বপ্ন। স্বপ্নটা শেষপর্যন্ত দেখতে ইচ্ছা করছে না। আমি দরজা খুলে দেখতে চাই না দরজার ওপাশে কে দাঁড়িয়ে আছে। আমার জানার কোনো ইচ্ছা নেই ভারী গলায় কে আমাকে ডাকছে। আমি জেগে ওঠার চেষ্টা করছি। জাগতে পারছি না। কেউ আমাকে স্বপ্নের শেষটা দেখাতে চায়, আমি দেখতে চাই না। প্রচণ্ড অস্বস্তিতে ঘুমের মধ্যেই ছটফট করতে করতে আমি জেগে উঠলাম।

এই বইটি কি আপনার ভালো লেগেছে?

আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

📜 দাতা সদস্যবৃন্দ

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!