প্রিয় পাঠক!

জ্ঞান বিতরণের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সার্ভার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন। আপনার আমাদের এই উদ্যোগটি চালিয়ে নিতে এবং আরও নতুন বই সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ।

ফিজিকস অব দ্য ইমপসিবল
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ২১ জুলাই ২০২৩

ফিজিকস অব দ্য ইমপসিবল

মিশিও কাকু

১৬৩ ভিউ
৫৭ ডাউনলোড
বইটি ডাউনলোড করুন
অনুবাদকের কথা
বিজ্ঞান কল্পকাহিনিকে বলা হয় ভবিষ্যতের রূপকথা। আজ যেটা বিজ্ঞান কল্পকাহিনি কাল সেটা হয়ে উঠতে পারে প্রতিদিনের বাস্তবতা। ইতিহাসে এ রকম উদাহরণ অনেক। স্মরণ করা যেতে পারে উনিশ শতকের জনপ্রিয় ফরাসি লেখক জুল ভার্নের লেখা ফ্রম আর্থ টু দ্য মুন শিরোনামের বিজ্ঞান কল্পকাহিনির কথা। এ উপন্যাসে প্রথমবারের মতো প্রায় বিজ্ঞানসম্মতভাবে রকেটে চেপে চাঁদে অভিযানের বর্ণনা দেন ভার্ন। তার প্রায় শতবর্ষ পর সত্যি সত্যিই চাঁদের বুকে পা রাখে মানুষ।

পাঠক জানেন, আজকের স্যাটেলাইট, ইন্টারনেট, স্মার্ট কার্ড, রোবট, রকেটসহ অনেক প্রযুক্তি প্রথম দেখা গিয়েছিল বিজ্ঞান কল্পগল্পের পাতায়। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, এসবের অনেক কিছুই স্রেফ অসম্ভব বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন সেকালের বাঘা বাঘা পণ্ডিত, বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা। ধরা যাক কেলভিন স্কেলের জনক ব্রিটিশ পদার্থবিদ লর্ড কেলভিনের কথা। তিনি মনে করতেন, বাতাসের চেয়ে ভারী কোনো বস্তুকে শূন্যে ভাসানো সম্ভব নয়। এমনকি রেডিওরও কোনো ভবিষ্যৎ দেখতে পাননি তিনি। আর এক্স-রেকে কতিপয় লোকের ধাপ্পাবাজি হিসেবে ঘোষণা করেন কেলভিন। এদিকে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের আবিষ্কর্তা আর্নেস্ট রাদারফোর্ড পারমাণবিক বোমা তৈরির সম্ভাবনাকে অবাস্তব কল্পনা বলে নাকচ করে দেন। ১৯৩০-এর দশকে তাঁর বক্তব্যের প্রতিধ্বনি পাওয়া গিয়েছিল আপেক্ষিকতা তথা E=mc^2-র মতো বিখ্যাত সমীকরণের স্রষ্টা বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের কণ্ঠে। মজার ব্যাপার হলো, এর ১০ বছরের মাথায় আস্ত একটা পরমাণু বোমা বানিয়ে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র।

এসব কারণেই তাত্ত্বিক পদার্থবিদ মিচিও কাকু বলতে চান, অসম্ভব ব্যাপারটা আপেক্ষিক। আজ যা অসম্ভব, কাল সেটা যৌক্তিকভাবে সম্ভব হয়ে উঠতে পারে। আজ আমরা যেসব প্রযুক্তি ছাড়া একটি মুহূর্তও কল্পনা করতে পারি না, ১০০ বছর বা তারও আগের বিশ্বে সেটাই মনে হতো অসম্ভব কিংবা ম্যাজিক। আমরাও একই অবস্থায় পড়ি বিজ্ঞান কল্পকাহিনি-নির্ভর বই পড়তে বা মুভি দেখতে গিয়ে। স্টার ট্রেক বা স্টার ওয়ার্স কিংবা আইজ্যাক আসিমভ ও আর্থার সি ক্লার্কের বই বা এই সিনেমাগুলোতে দেখানো ভবিষ্যতের ঝাঁ- চকচকে প্রযুক্তি আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। বিজ্ঞান কল্পকাহিনি লেখক তো লিখেই খালাস। কিন্তু সেগুলো কি বাস্তবে আদৌ সম্ভব? এ সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় মিচিও কাকুর ফিজিকস অব দ্য ইমপসিবল বইয়ে।

বর্তমানে তুমুল আলোচিত বিষয়ের মধ্যে রয়েছে টাইম ট্রাভেল, টেলিপোর্টেশন, ওয়ার্মহোল, স্টার শিপ, এলিয়েন, অদৃশ্য হওয়ার ক্ষমতা, ফোর্স ফিল্ড বা বলক্ষেত্র, ফেজার, আন্তনাক্ষত্রিক ভ্রমণসহ আরও অনেক কিছু। এসব প্রযুক্তি এখনো বিজ্ঞান কল্পগল্পের পাতাতেই সীমাবদ্ধ। অনেক আধুনিক বিজ্ঞানী এগুলো অসম্ভব ও গাঁজাখুরি বলে রায় দিয়েছেন। কিন্তু সেগুলোকে মোটাদাগে অসম্ভব বলতে নারাজ মিচিও কাকু। এসব প্রযুক্তি সম্ভব, নাকি অসম্ভব—তা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, তথ্য ও যুক্তিতর্ক দিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। এভাবে বিজ্ঞান কল্পকাহিনি আর প্রকৃত বিজ্ঞানের সীমারেখা টেনে বাস্তবে সেগুলো সম্ভব নাকি অসম্ভব তা ফিজিকস অব দ্য ইমপসিবল বইয়ে খতিয়ে দেখেছেন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ মিচিও কাকু।

২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হওয়ার পর নিউইয়র্ক টাইমস-এ ননফিকশন বিভাগে বেস্টসেলারের মর্যাদা পায় বইটি। বিজ্ঞানী, লেখক ও টিভি উপস্থাপক হিসেবে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় মিচিও কাকু। সহজ ভাষায় বিজ্ঞানের বিষয়গুলো সাধারণ পাঠকের কাছে তুলে ধরার কারণেই তাঁর এ জনপ্রিয়তা। বই ও উপস্থাপনার সুবাদে বাংলাদেশেও তিনি বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু তাঁর ফিজিকস অব দ্য ইমপসিবল ও অন্যান্য বই ইংরেজিতে এ দেশে পাওয়া গেলেও তাঁর কোনো বইয়ের পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ এখনো প্রকাশিত হয়নি। বাংলা ভাষার পাঠকের ভালো লাগলে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।

আবুল বাসার
ঢাকা, জানুয়ারি ২০২০

এই বইটি কি আপনার ভালো লেগেছে?

আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

📜 দাতা সদস্যবৃন্দ

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!