প্রিয় পাঠক!

জ্ঞান বিতরণের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সার্ভার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন। আপনার আমাদের এই উদ্যোগটি চালিয়ে নিতে এবং আরও নতুন বই সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ।

হরিপুরের হরেক কান্ড
গল্প ২৯ জুলাই ২০২৩

হরিপুরের হরেক কান্ড

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

১৬৪ ভিউ
৫৪ ডাউনলোড
বইটি ডাউনলোড করুন
গদাই নস্কর ডাকাতি ছাড়লে হবে কী, হাঁকডাক ছাড়েনি, আর নগেন দারোগা চাকরি থেকে রিটায়ার করেছেন বটে, কিন্তু দাপট যাবে কোথায়? গদাই যখন ডাকাত ছিল আর নগেন যখন দারোগা, তখন দুজনে বিস্তর লড়াই হয়েছে। গদাইকে দু-দুবার গ্রেফতার করেছিলেন নগেন, দুবারই গদাই গারদ ভেঙে পালায়। দুজনেই ছিলেন দুজনের জন্মশত্ৰু। এখনও যে তাঁরা পরস্পরকে খুব একটা পছন্দ করেন তা নয়। তবে সন্ধেবেলায় দুজনেই বসে হ্যারিকেনের আলোয় নিবিষ্ট মনে দাবা খেলেন। আজও খেলছিলেন।

শীতকালের শুরুতেই খুব ঝড়বৃষ্টি হয়েছে দুদিন ধরে। বাঘা শীতটা না পড়লেও উত্তুরে হাওয়ায় বেশ হি হি কাঁপুনি ওঠে। এই দুর্যোগের রাতে ডাকসাইটে জমিদার মহেন্দ্র দেবরায় তাঁর কাছারি ঘরে নিচু তক্তপোষে তাকিয়া ঠেস দিয়ে বালপোষ গায়ে বসে গড়গড়া টানছেন। সামনে একট কাঠের চেয়ারে পা তুলে যে-লোকটা বসে আছে সে ত্রিশ বছর আগে ছিল রাজদ্রোহী পবনকুমার। মহেন্দ্রচন্দ্রকে সিংহাসনচ্যুত করে রাজ্যকে সুশাসিত করার জন্য যে প্রবল লড়াই করেছিল। আজ আর রাজ্যও নেই, সিংহাসনও লোপাট। মহেন্দ্রচন্দ্রের সময় কাটে না আর পবনকুমার মাস্টারির চাকরি থেকে রিটায়ার করে এখন একরকম ঘর-বসা। এই সন্ধেবেলাটা রোজই দুজনের দেখাসাক্ষাত হয়। সুখ-দুঃখের কথা ওঠে। অবিশ্যি আড্ডায় আরও দু-চারজন রোজই থাকে। আজ বৃষ্টি-বাদলা বলে আর কেউ আসেনি।

এই বইটি কি আপনার ভালো লেগেছে?

আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

📜 দাতা সদস্যবৃন্দ

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!