প্রিয় পাঠক!

জ্ঞান বিতরণের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সার্ভার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন। আপনার আমাদের এই উদ্যোগটি চালিয়ে নিতে এবং আরও নতুন বই সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ।

দিন দুপুরে
ছোট গল্প ২১ জুলাই ২০২৩

দিন দুপুরে

লীলা মজুমদার

২৫৩ ভিউ
৮১ ডাউনলোড
বইটি ডাউনলোড করুন
কোন সকালে কলু কদ্দিন দেখেছে রাস্তার মধ্যিখানে লোহার গোল ঢাকনি খুলে খ্যাংরাকাঠির মতন গোঁফওয়ালা লোক, ছোট বালতি হাতে দড়িবাঁধা কালো ছেলেকে নামিয়ে দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওৎ পেতে বসে থাকে। লোকটার খোঁচা খোঁচা দাড়িতে কাদার ছিটে-অমুদা যখন দাড়ি কামাতো না তখন তাকে যেমন দেখাতো সেই রকম দেখায় । ছোট ছেলেটা হয়তো ওর ভাইপো হবেও বা। ওর নাম হয়তো ছক্কু, ওর গায়ে মোটে কাপড় নেই, কিন্তু কানে সোনালি রংয়ের মাকড়ি, গলায় মাদুলি বাঁধা। বুবু বলে নাকি সত্যি সোনার নয়; ওরা গরিব কিনা, খেতেই পায় না, ও পেতলের হবে। কলু, আর বুবু ছাড়া ওদের কেউ দেখেই না। সামনে দিয়ে দেবরঞ্জন মামা, অমুদা, ননিগোপালরা সবাই চলে যায়, তাড়াতাড়ি কোথায় কোন বন্ধুর বাড়ি-ওদের চোখেই পড়ে না। কিন্তু কলু দেখেছে লোকটা মাঝে মাঝে বালতি টেনেটুনে উপরে তোলে, সেটা থাকে কাদায় ভরা; সেই নোংরা কাদা রাস্তার পরিষ্কার ডাস্টবিনে ঢেলে আবার বালতি নামিয়ে দেয়। কাদা ছাড়া কখনও কিচ্ছু ওঠে না। কত কি তো হারিয়ে যায়, কিন্তু ওর ভিতর থেকে কিছু কক্ষনও বেরোয় না। দাদা বলেছিলো বিদ্যাধরী নদীর সঙ্গে ওর সোজাসুজি যোগ আছে, ওর ভিতর কুঁদো কুমির ছেলেপুলে নিয়ে হুমো দিয়ে থাকে, কই বালতিতে তার ডিমটিম তো কক্ষনও পাওয়া যায় না! দাদার ফাউণ্টেন পেন হারিয়ে গেলো; চিনুদার কবিতার খাতা হারিয়ে গেলো; বদ্যিনাথের নতুন চটি হারিয়ে গেলো গোরামামার বাড়ি নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে; সেইদিনই আবার পাল সাহেবের ছাতাও কোথায় হারিয়ে গেলো; ছোড়দির চুড়ি ড্রেনের ভিতর তলিয়ে গেলো, এতো সব গেলো কোথায়? তার কিচ্ছু মোটে কোত্থাও পাওয়াই গেলো না। অথচ সেই লোক দুটো কতো কাদা ওঠালো!

এই বইটি কি আপনার ভালো লেগেছে?

আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

📜 দাতা সদস্যবৃন্দ

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!