(১২ জুলাই ১৯২১ - ২৪ মে ২০১৪) সুকুমারী ভট্টাচার্য ছিলেন প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য-ইতিহাস-সংস্কৃতির বিদগ্ধ গবেষক ও প্রখ্যাত অধ্যাপক। সারা জীবনে বাংলা ও ইংরাজী ভাষায় সমান দক্ষতায় তিরিশটিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। মাইকেল মধুসূদন দত্তের এই সুযোগ্য উত্তরসূরী অধ্যাপনার ক্ষেত্রেও প্রভূত সাফল্য অর্জন করেন। হিন্দু সমাজের অযৌক্তিক আচার ব্যবহারে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কলকাতায় এসে খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত হন তিনি। ছাত্র জীবনের প্রথম কয়েক মাস মেদিনীপুরে কাটিয়েই সুকুমারী কলকাতায় চলে আসেন। সেখানে ক্রাইস্ট চার্চ স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা। পরে সেন্ট মার্গারেট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক। এরপর সংস্কৃতে সাম্মানিক নিয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়তে চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হন। কারণ সে সময় প্রেসিডেন্সিতে মেয়েদের প্রবেশাধিকার ছিল না। শেষ পর্যন্ত ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৫ সালে লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজএ ইংরাজি সাহিত্যে শিক্ষকতার শুরু। এক যুগ তিনি ছিলেন সেখানে। অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি সেই কলকাতা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকেই প্রাইভেটে সংস্কৃতে এমএ পাশ করেন ১৯৫৪ সালে। ১৯৫৭ সালে বুদ্ধদেব বসুর আমন্ত্রণে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে। পরের বছর সুশীল কুমার দে সুকুমারীকে সংস্কৃত বিভাগে নিয়ে যান। ১৯৮৬ সালে অবসরের সময় পর্যন্ত তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিভাগেই ছিলেন। সুকুমারী দেবীর তত্ত্বাবধানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে একটি ছাত্র কল্যাণ তহবিল গড়ে ওঠে। দুস্থ ছাত্রদের কল্যাণে এই তহবিল আজও বর্তমান। এই তহবিলের সুবিধা নেবার পর কেউ কেউ পরবর্তী পর্যায়ে অর্থ ফেরত দিতে পেরেছে কেউ পারেনি। তার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রাচীন মহাকাব্য গবেষক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী, লেখক নবনীতা দেবসেন,অভিজিৎ ঘোষ উল্লেখযোগ্য। কর্মসূত্রে সান্নিধ্য পেয়েছেন সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, সুশীল কুমার দে, নীরদ চন্দ্র চৌধুরী,ভি ভি কোশাম্বী, আর এস শর্মা, হীরেন মুখোপাধ্যায়, চিন্মোহন সেহানবিশের মত দিকপালেদের।
সংগৃহিত বই: ৫ টি