প্রিয় পাঠক!

জ্ঞান বিতরণের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সার্ভার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন। আপনার আমাদের এই উদ্যোগটি চালিয়ে নিতে এবং আরও নতুন বই সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ।

বারোটি রহস্য উপন্যাস
রহস্য রোমাঞ্চ ১৯ আগস্ট ২০২৩

বারোটি রহস্য উপন্যাস

অনীশ দেব

১৫২ ভিউ
৬৪ ডাউনলোড
বইটি ডাউনলোড করুন
ঘটনাটা আত্মহত্যা কিংবা দুর্ঘটনা, দুটোর একটা মনে হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু কোনওটাই নয়। পরিষ্কার খুন।



খুনের পর অকুস্থলে সবার আগে হাজির হওয়ার সুযোগ খুব কম ডিটেকটিভই পায়, কিন্তু এক্ষেত্র ঈশ্বর করুণাময়। আমিই প্রথমে এসে উপস্থিত হয়েছি।



সি.আই.টি. রোডের একটা শরিকী সংঘর্ষ মেটাতে আমি আর আমার সঙ্গী, সার্জেন্ট সুরেশ নন্দা, জিপ ছুটিয়ে যাচ্ছিলাম, ফুলবাগানে মোড় ঘুরতেই একটা বাচ্চা ছেলে ব্লু স্টার হোটেলের পেছনের গলিটা থেকে বেরিয়ে এল। চিৎকার করে বলতে লাগল, গলিতে একটা লোক মরে পড়ে আছে।



ছেলেটা ছুটে চলে গেলেও নন্দা গাড়ি ঘুরিয়ে গলিটায় ঢুকল।



ছ’টা বেজে এখন কয়েক মিনিট। জুনের ভ্যাপসা গরম। তারই মধ্যে আমরা দাঁড়িয়ে দেখছি দামি পোশাক-পরিচ্ছদ পরা এক যুবকের মৃতদেহ রাস্তায় অসহায়ভাবে পড়ে রয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে, মাত্র কয়েকমিনিট আগেই সে হোটেলের অন্তত তিন কি চারতলার জানলা দিয়ে পড়েছে। ওপরে তাকিয়ে মেপে নিলাম–হোটেলটা ছ’তলা।



ফরসা দেহটা হাত-পা ছড়িয়ে চিৎ হয়ে পড়ে আছে। এত ওপর থেকে পিচের রাস্তায় এসে পড়লে যে পরিমাণ রক্তপাত হওয়ার কথা তা হয়নি। যুবকের দু-চোখের মাঝে নাকের ওপরটা কালচে হয়ে ফুলে আছে এবং মুখের বাঁ দিকে, বাঁ হাতে ও বাঁ কবজিতে কেমন গোলাপি আভা।



পুলিশের ডাক্তার মৃতদেহ পরীক্ষা না করা পর্যন্ত হয়তো আমাদের ছোঁওয়া উচিত নয়, কিন্তু প্রয়োজন ও কৌতূহল বেশিরভাগ সময়েই জিতে যায়। সুতরাং আঙুলের ডগা মৃতদেহের চোয়ালে ঠেকিয়ে আস্তে ঠেলা মারলাম। মাথাটা খুব সহজেই একপাশে ঘুরে গেল।



রাইগর মর্টিস শুরু হয়নি এখনও না? সুরেশ প্রশ্ন করে।



না, আমি বলি। লোকটার পকেট থেকে মানিব্যাগটা বের করে খুললাম। চারশো তিপ্পান্ন টাকা, কয়েকটা সংখ্যা ও ঠিকানা লেখা চিরকুট, আর সাতটা একইরকম আইভরি কার্ড। কার্ডগুলো সম্ভবত মৃত ব্যক্তির। তাতে লেখা : বিশ্বনাথ শিভালকর, এজেন্ট। সতেরো, এলগিন রোড, কলকাতা ৭০০০২০।



নাম-ঠিকানা সুরেশকে পড়ে শোনালাম। ব্যাগটা আবার ফিরিয়ে রাখলাম পকেটে, উঠে দাঁড়ালাম। ডাক্তারি পরীক্ষা হয়ে গেলে আরও খুঁটিয়ে সব কিছু পরীক্ষা করে দেখব।



বডির বাঁ দিকটায় পোস্টমর্টেম লিভিডিটি দেখা যাচ্ছে। সুরেশ সেদিকে আঙুল দেখিয়ে বলল, অতটা লালচে হতে অন্তত ঘণ্টাখানেক সময় লেগেছে, কী বলেন?

এই বইটি কি আপনার ভালো লেগেছে?

আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

📜 দাতা সদস্যবৃন্দ

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!